বাঙালির কাছে ফুচকা একটা আবেগের নাম। আর টিটাগড়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী জ্যোতির্ময়ী সাহার কাছে সেই ফুচকার সঙ্গে জড়িয়ে আরও বাড়তি কিছু আবেগ। সে আবেগের বয়স ৮ মাস। জীবনটাই বদলে গেছে জ্যোতির্ময়ীর পরিবারের। আর এই গল্প বদলে দেওয়ার নেপথ্যে এক 'ফুচকাওয়ালা'। বাড়ির একমাত্র রোজগেরে সদস্য জ্যোতির্ময়ীর দাদা বেসরকারি এক সংস্থায় কর্মরত। লকডাউনে তাঁর বেতন কমে অর্ধেক। এই পরিস্থিতিতে পরিবারকে দাঁড় করাতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখা জ্যোতির্ময়ী খুলে ফেলল একটা দোকান। কীসের, না ফুচকার! দশ বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকা বাবার মুদির দোকানটাই হয়ে উঠল রকমারি স্বাদের ফুচকা ঘর। সমাজ কিছু বলেনি? বলেছে! কিন্তু সে সব গায়েই মাখেনি দু'ভাই বোন। আর পাশে পেয়েছে আইসিডিএস কর্মী সুশীলা দেবীকে।
খড়দা স্টেশন রোডের ওপর ফুচকাওয়ালায় এখন ফুচকাপ্রেমীদের নিত্য যাতায়াত। লকডাউনে দোকানে খদ্দের কম, তো কী? দেদার বিক্রি অনলাইনে। জোতির্ময়ী আর তার দাদা নাকি দিব্যি একটা ফুচকা ডেলিভারির অ্যাপও বানিয়ে ফেলেছে। সেই অ্যাপ মারফত বুক করলেই এক হবু কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের হাতে তৈরি ফুচকা পৌঁছে যাচ্ছে ঘরে ঘরে।