তাণ্ডব চালাতে পারে ঘূর্ণিঝড় 'দানা'। এমনই আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে মৌসম ভবন। মূলত ওড়িশার পারাদ্বীপে প্রভাব পড়বে ঘূর্ণিঝড়ের। তবে পশ্চিমবাংলার কয়েকটি এলাকাতেও ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
ওড়িশার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারও 'দানা' মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ত্রাণ শিবির তৈরির পাশাপাশি বাঁধগুলি মেরামত করা হয়েছে। পাশাপাশি গণ পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
ট্রেন বাতিল-
ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে হাওড়া ও শিয়ালদহ সেকশনে একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে শিয়ালদহের প্রতিটি শাখায় লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকবে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় দানার কথা মাথায় রেখে ২৪ অক্টোবর তারিখ রাত আটটার পর কোনও ট্রেন ছাড়বে না।
এর পাশাপাশি হাসনাবাদ ও নামখানা শাখার কোনও ট্রেন সন্ধ্যা সাতটার পর ছেড়ে আর শিয়ালদহে আসবে না। ঝড়ের সময় মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পূর্ব রেলের এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন কৌশিক মিত্র। তিনি জানিয়েছেন, ২৫ তারিখ অর্থাৎ শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত শিয়ালদহে লোকাল ট্রেনের পরিষেবা বন্ধ থাকবে।
দক্ষিণ পূর্বরেল এবং পূর্ব উপকূলীয় রেলওয়ের তরফে একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ২৩ তারিখ অর্থাৎ বুধবার থেকে শুরু করে ২৫ তারিখ অর্থাৎ শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ১৭৮টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই মর্মে মঙ্গলবার একটি প্রেস রিলিজ প্রকাশ করেছে ভারতীয় রেল। ওই প্রেস রিলিজে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় দানার জন্য আপ ও ডাউন লাইনে ২৩ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রচুর ট্রেন বাতিল থাকবে। বাতিল হওয়া ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে ৮৫টি আপ এবং ৯৩টি ডাউন লাইনের ট্রেন।
বিমান পরিষেবা সাময়িক বন্ধ-
ঘূর্ণিঝড় 'দানা'-র কারণে স্তব্ধ হতে চলেছে কলকাতা থেকে বিমান পরিষেবা। ঝড়ের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী বিমান পরিষেবা বাতিল করা ছাড়া আর অন্য কোনও উপায় নেই বলেই জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রে খবর, ২৪ তারিখ সন্ধে ৬টা থেকে পরেরদিন অর্থাৎ ২৫ তারিখ সকাল ৯টা পর্যন্ত বিমান পরিষেবা সম্পূর্ণ বাতিল থাকবে। সাইক্লোনের জন্য আগাম সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বাস পরিষেবা-
'দানা'-র প্রভাবে সন্ধে থেকে বাস সাময়িক বন্ধ থাকতে পারে বাস পরিষেবা। তবে এই বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি। বাস চালক ও কনডাক্টারদের অনেকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তাঁরা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবং যাত্রী থাকলে বাস চালাবেন তাঁরা।
লেটেস্ট আপডেট
মৌসম ভবনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ওড়িশার সমুদ্রে শুরু হয়েছে ঝড়। প্রায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইছে বলে জানা গিয়েছে। সন্ধের পর থেকে পরিস্থিতি বদল হতে পারে। সর্বাধিক গতিবেগ ১২০ কিলোমিটার হতে পারে।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই। কলকাতা, হাওড়া, দুই মেদিনীপুর, দুই পরগনায় হালকা বৃষ্টি চলছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
কয়েকটি জেলায় ঝড়েরও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঝড় হতে পারে। ঝড়ের সর্বাধিক গতিবেগ ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার থাকতে পারে। মৎস্যজীবীদেরও সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।