গঙ্গার ভাঙনে তলিয়ে গেলো ভূতনীর কেশবপুর বাঁধ (West Bengal floods)। ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় একশো মিটার বাঁধ ভেঙে জল ঢুকতে শুরু করেছে সংরক্ষিত এলাকায়। যে কোনো মুহূর্তে প্লাবিত হতে পারে ভূতনীর বিস্তীর্ন এলাকা। অন্যদিকে, কশিঘাটের বাঁধেও শুরু হয়েছে ভাঙন। কার্যত দিশেহারা ভূতনি চরের বাসিন্দারা ।
মালদহ শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এই ভূতনিচর। গঙ্গার এই চরে লক্ষাধিক মানুষের বাস। প্রতিবছর এই চরের মানুষদের সম্মুখীন হতে হয় ভাঙনের। সেচ দপ্তরের তরফে কোটি কোটি টাকার কাজ করার দাবি করা হলেও ভাঙনে প্রতিবছরই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় ভূতনিতে। বৃহস্পতিবার রাত্রি ১১টা নাগাদ গঙ্গার ভয়াবহ ভাঙনে তলিয়ে যায় কেশবপুর বাঁধ. হুহু করে জল ঢুকতে শুরু করে ভূতনীর সংরক্ষিত এলাকায় । এই কেশবপুর বাঁধ থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে একটি রিং বাঁধ। সেই বাঁধ ভাঙলেই জলের তলায় তলিয়ে যাবে গোটা ভূতনি চর। কয়েক লক্ষ মানুষ গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কা।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হক, বাসুদেব মন্ডলদের অভিযোগ, ফি বছর এই ভূতনি বাঁধে সেচ দপ্তর থেকে কাজ করা হয়। কিন্তু কাজ নিম্ন মানের হওয়ায় প্রতি বছরই বাঁধ কেটে যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারি আমলা বা ঠিকাদার সংস্থা -সকলেই এই দুর্নীতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, পরিকল্পনা ছাড়া এই বাঁধ মেরামত হলে প্রতিবছরই তা গঙ্গার জলে তলিয়ে যাবে। প্রতিবছর নিম্নমানের বাঁধ মেরামতের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা, কিন্তু ফল হয় না।
ভাঙনের খবর পেয়ে ইতিমধ্যেই এলাকায় পৌচেছেন সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁরা জানান, কেশবপুর বাঁধে প্রায় কুড়ি মিটার জায়গা দিয়ে জল ঢুকছে । এই জল আটকানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে স্থানীয়দের অন্যত্র উঁচু জায়গায় যাওয়ার জন্য। গ্রামে যাতে জল না ঢুকে যায়, সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে ।