আরজি কর হাসপাতালের মৃত চিকিৎসকের বাড়িতে ফের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দল। শুক্রবার দুপুরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের নির্যাতিতার বাড়িতে যান অফিসারেরা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে যে সব সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা, সেই বিষয়ে তাঁদের প্রশ্ন করা হয়েছে বলে সিবিআই সূত্রে খবর।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আরজি করের ঘটনার তদন্ত ভার নেওয়ার পর গত ২৮ অগস্ট নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন সিবিআইয়ের দুই আধিকারিক। নির্যাতিতার বাবা-মা দাবি করেছিলেন, পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তদন্তকারীরা। নির্যাতিতার ডায়েরি-সহ কিছু জিনিসপত্র তদন্তের স্বার্থে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন তদন্তকারীরা। ফের শুক্রবার নির্যাতিতার সোদপুরের বাড়িতে গিয়ে আড়াই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
শিক্ষক দিবসে একটি চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ওই হাতে লেখা চিঠি নির্যাতিতার মায়ের লেখা। ভাইরাল হওয়া চিঠির সত্যতা যাচাই করেনি এডিটরজি বাংলা। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার পর প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথ্যপ্রমাণ লোপাটে তৎপর হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় কারোর কাছে কোনও তথ্যপ্রমাণ থাকলে সেগুলি দ্রুত প্রকাশ্যে আনার দাবি করা হয়। মৃত চিকিৎসকের বিচারের দাবিতে সহপাঠীদের আন্দোলনকেও সমর্থন জানিয়েছেন নির্যাতিতার মা। আগামী দিনে আন্দোলন জারি রাখারও আবেদন করেছেন তিনি।
জুনিয়র ডাক্তারদের রাতদখলের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা মা। মেয়ের মৃত্যুকে ঘিরে তাঁদের প্রশ্ন, সকাল ১০টার পর ঘটনা প্রথম জানতে পারে হাসপাতালের পুলিশের আউটপোস্ট, তারপরেও কেন শারীরিক পরীক্ষা করা হয়নি ? খুন না আত্মহত্যা ? ফের সরাসরি পুলিশ এবং হাসপাতালকেই দায়ী করেছে নির্যাতিতার পরিবার।
ময়নতদন্ত, এফআইআর-এ দেরি কেন ? কেন এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করল পুলিশ ? কেন দুপুর থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে কোনও বিবৃতি দেওয়া হল না ? এই সব প্রশ্ন তোলা হয়েছিল নির্যাতিতার বাবা-মায়ের তরফে।
আরজি কর নিয়ে এই একাধিক প্রশ্ন তোলার দিনে নির্যাতিতার পরিবারের ফের অভিযোগ, তাঁদের টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল পুলিশ। অভিযোগ, ডিসি নর্থ প্রথমে তাঁদের টাকার অফার করেছিলেন। ডিসি সেন্ট্রাল বার বার মিথ্যা বলছেন কেন ?