ফের ভেস্তে গেল বৈঠক । কালীঘাটের বাড়িতেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হল না জুনিয়র ডাক্তারদের । এদিন, কালীঘাটে গিয়েও প্রথম থেকেই লাইভ স্ট্রিমিংয়ের দাবি তুলেছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা । কিন্তু,প্রশাসনের তরফে বারবার জানিয়ে দেওয়া হয় লাইভ স্ট্রিমিং সম্ভব নয় । এরপর ভিডিওগ্রাফির দাবি তোলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা । কিন্তু, তাও সম্ভব নয় জানানো হয় । পরে আলোচনায় বসেন ডাক্তাররা । এরই মধ্যে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান মুখ্যসচিব, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা । এরপর জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, লাইভ স্ট্রিমিং ও ভিডিওগ্রাফি ছাড়াও আলোচনায় রাজি ছিলেন । যখন তাঁরা বিষয়টি জানাতে যান, সেইসময় তাঁদের বেরিয়ে যেতে বলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য । জুনিয়র চিকিৎসকদের অভিযোগ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তাঁদের জানান অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে । জুনিয়র চিকিৎসকদের চোখ জল । তাঁদের দাবি, হতাশ হয়েছেন তাঁরা ।
শনিবার ৬টায় বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছিল । নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪০ মিনিট পর কালীঘাটে পৌঁছন জুনিয়র ডাক্তাররা । মুখ্যসচিবের তরফে বৈঠকে ১৫ জনের প্রতিনিধি দলের অনুমতি দিয়ে মেইল করা হয় জুনিয়র ডাক্তারদের । কিন্তু, ৩০ জনেরই প্রতিনিধি দল পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে । সেখানে পৌঁছে আবারও লাইভ স্ট্রিমিং ও ভিডিওগ্রাফির দাবি তোলেন । কিন্তু, প্রশাসনের তরফে তা মেনে নেওয়া হয়নি । বৃষ্টির মধ্যেই অপেক্ষা করছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা । এরপর কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেন, ভিতরে আসার অনুরোধ করেন । জুনিয়র ডাক্তারদের বোঝানোর চেষ্টা করেন । তাঁর অনুরোধ, তাঁরা যেন বৃষ্টিতে না ভেজেন । চা পানেরও অনুরোধ জানান । কেন লাইভ স্ট্রিমিং সম্ভব নয়, কেন ভিডিও তুলে দেওয়া হবে না, তাও ব্যাখ্যা করেন । তিনি জানান, ভিডিওগ্রাফি নয়, মিনিটস দিতে পারেন ।
এরপর আলোচনায় বসেন জুনিয়র চিকিৎসকরা । তার কিছুক্ষণের মধ্যে কালীঘাট থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে । এরপরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন জুনিয়র চিকিৎসকরা । তাঁদেব দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের প্রতি সম্মান রেখে তাঁরা ভিডিয়োগ্রাফি ছাড়াই মিনিটস দেওয়ার শর্তে রাজি হয়েছিলেন । যখন আলোচনা করে জানাতে গেলেন, তখন হঠাৎ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বললেন, আর সম্ভব নয়। অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। আলোচনায় বসতে রাজি নয় তাঁরা । জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি, 'আমাদের এত সদিচ্ছা, এতটা নামলাম, এই অচলাবস্থা যাতে কাটানো যায়, তার জন্য সব শর্ত মানলাম, তার পর বলা হল, সম্ভব নয়! তার পর তাঁরা বেরিয়ে গেলেন।' ঘটনায় তাঁরা খুবই হতাশ বলে জানিয়েছেন ।