আরজি কর ইস্যুতে ৫ দফা দাবি নিয়ে স্বাস্থ্যভবনের সামনে টানা ৪ দিন আন্দোলন চলছে জুনিয়র ডাক্তারদের। বৃহস্পতিবার শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গিয়েছিল নবান্নের বৈঠক। শুক্রবার সকাল থেকে স্বাস্থ্যভবনের সামনের রাস্তাতেই অভয়া ক্লিনিক চালানোর সিদ্ধান্ত নিলেন আন্দোলনরত ডাক্তাররা।
দু পক্ষের আলোচনার লাইভ স্ট্রিমিং সম্ভব নয়, বৃহস্পতিবার সন্ধেয় জানিয়ে দেয় নবান্ন। তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফের স্বাস্থ্য ভবনের সামনের বিক্ষোভেই ফিরে আসে ৩৪ জনের ডাক্তারদের প্রতিনিধি দল। ৩৩ দিন ধরে তাঁরা রাস্তায়, দরকারে আগামী ৩৩ দিনও রাস্তায় থাকতে পারেন, বার্তা দিলেন আন্দোলনকারীরা।
সুপ্রিম কোর্টে গত ৯ সেপ্টেম্বরের আরজি করের শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরে এখনও পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুনানির পর রাজ্যের আন্দোলরত চিকিৎসকেরা বারবার দাবি করেন, একটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শুধু জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, সেক্ষেত্রে আরও চিকিৎসক নিয়োগ করা প্রশাসনের দায়িত্ব। এছাড়াও আন্দোলরত চিকিৎসকেরা বারবার উল্লেখ করেন, রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় অভয়া ক্লিনিক খুলে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে, এবং সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র ডাক্তাররা ডিউটি করছেন। এবার স্বাস্থ্যভবনের সামনে আন্দোলনের পাশাপাশি অভয়া ক্লিনিকের উদ্যোগ নিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা।
সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন, সিবিআই তদন্ত করছে, তাই এই বিষয় নিয়ে আলোচনায় লাইভ স্ট্রিমিং সম্ভব নয়, বৃহস্পতিবারের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পেছনে এরকমই কারণ দেখায় নবান্ন। এই আপত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনরত ডাক্তাররা। তাঁরা জানান, প্রথম থেকেই আন্দোলনের দাবি সম্পর্কে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে, রাজ্য সরকারকে মেল করেছিলেন। যে কোনও প্রশাসনিক বৈঠক লাইভ স্ট্রিমিং হলে এই বৈঠকও সম্ভব। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে এমন কোনও তথ্য তাঁরা দিতে যাচ্ছিলেন না যা সিবিআই কে দেওয়া উচিত ছিল, তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়, জানিয়েছেন ডাক্তাররা।
বিচার নয়, চেয়ার চায়, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যও সঠিক নয়, স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা, জানিয়েছেন, তাঁরা চেয়ার চাননি, আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা চাইছিলেন বলেই নবান্নে দেখা করতে গিয়েছিলেন।