কালীঘাটে বৈঠক শুরু হল না এখনও । আবারও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের দাবিতে অনড় জুনিয়র ডাক্তাররা । তাঁদের অভিযোগ, তাঁদের ভিডিওগ্রাফারদেরও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না । স্বচ্ছতা রেখেই আলোচনা করতে চাইছেন তাঁরা । কিন্তু, প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের দাবি মানা সম্ভব নয় । এদিকে, বৃষ্টির মধ্যে ভিজে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে অপেক্ষায় জুনিয়র ডাক্তাররা । কালীঘাটের বাড়িতেও অপেক্ষা করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । পরে তিনি বেরিয়ে এসে জুনিয়র ডাক্তারদের অনুরোধ করেন, ভিতরে আসার । চা খাওয়ার নিমন্ত্রণ জানান ।
জুনিয়র ডাক্তাররা বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি। মুখ্যসচিব স্যর আসেন, আমরা তাঁকে বলি, সরাসরি সম্প্রচার করতে হবে। তিনি বলেন, এটা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি। এখান থেকে সরাসরি সম্প্রচার সম্ভব নয়। দফায় দফায় আলোচনা করে জানায় সম্ভব নয়।'
ভিডিওগ্রাফিরও দাবি জানান তাঁরা । বলেন, 'আমাদের সঙ্গে নিজস্ব ভিডিয়োগ্রাফার রয়েছেন। আমরা তাঁকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দিতে বলি। ভিডিয়োগ্রাফির প্রক্রিয়া যাতে আমরাও চালাতে পারি। এই প্রক্রিয়া যাতে দ্বিপাক্ষিক হয়। তাঁদের অনুরোধ করি। তাঁরা দফায় দফায় আলোচনা করে জানান, সেটাও সম্ভব নয়।'
জুনিয়র ডাক্তারদের আরও দাবি, 'কী কারণে আমাদের ভিডিয়োগ্রাফারকে অনুমতি দেওয়া যাবে না? আমরা এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছি। বলি, যে আমাদের ভিডিয়ো তোলা হচ্ছে। তাঁরা বলেন, এটা নিরাপত্তা জোন। এর পর জানাই, তাঁদের তরফে যে ভিডিয়ো তোলা হবে, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমাদের এক জন প্রতিনিধি রাখা হোক। প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে যাতে আমাদের লোকও দেখতে পারেন। বৈঠকের শেষে যাতে পুরো ভিডিয়ো আমাদের দেওয়া হয়। নম্রভাবে জানিয়েছি, এর কারণ, আমাদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর অবিশ্বাসের বিষয় নেই ।'
এরপরই কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী । চা পানের আমন্ত্রণ জানান । তিনি বলেন, 'বৈঠক না করো অনন্ত এক কাপ চা খেয়ে যাও। ভিজো না। তোমাদের অসুক করলে আমার খারাপ লাগবে। '
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, আন্দোলনকারীরা যে চিঠি দিয়েছিল, তাতে সরাসরি সম্প্রচারের কথা ছিল না । সরকারের তরফেও যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তাতেও কোনও লাইভ সম্প্রচারের কথা ছিল না । রাজনীতি ভুলে, মানুষের স্বার্থে কথা বলার অনুরোধ করেন ।