ভাল নাম হয় ভাল ভাল, গোছানো, পরিপাটি। আর ডাক নাম? সে বড় আটপৌরে, অগোছালো, কখনও আবার দস্যি। মোট কথা যে নাম সকলকে বলার নয়, সকলের জন্য নয়, সে নামই ডাক নাম। এখন তারকাদের তো গোটা জীবনটাই খোলা খাতার মতো। ভক্তরা রোজ ইচ্ছে মতো পাতা ওল্টান। তা প্রিয় তারকার ডাকনামটা জানতে ইচ্ছে করে না অপনার?
টলিপাড়ার দস্যি মেয়ে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকেন। ঠোঁটকাটা স্বভাব। এ হেন স্বস্তিকার ডাক নাম ভেবলি! বিশ্বাস হয়? টলিপাড়ায় স্বস্তিকার খুব কাছের মানুষেরা অভিনেত্রীকে ভেবলি বলেই ডাকেন।
ওদিকে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। বেশ দুষ্টু মিষ্টি নায়িকা। ছোট থেকেই নিশ্চয়ই মিচকে ছিলেন, তাই ডাক নাম গিন্টু। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলেও ভাল নামের পাশে ডাক নামটা ব্যবহার করেন শ্রাবন্তী। নাম শুনলেই বেশ একটা টম বয় ভাব ফুটে উঠে।
জেন ওয়াইয়ের হার্টথ্রব পরমব্রতর ডাক নাম বাবান, টলিপাড়ার কাছের মানুষদের কাছে তিনি পরমের চেয়ে বাবান নামেই বেশি জনপ্রিয়। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে সকলেই চেনেন অপু নামে, এক সময় টেলিভিশনে 'অপুর সংসার' নামের একটি টক শো সঞ্চালনা করতেন বড়পর্দার বব বিশ্বাস। আর স্বয়ং ইন্ডাস্ট্রি যিনি, তিনি তো প্রসেনজিতের চেয়েও বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন বুম্বা দা নামেই, আট থেকে আশি সবার বুম্বাদা তিনি।
দেবশ্রী রায়রা দুই বোন শৈশবে অনেক বেশি পরিচিতি পেয়েছিলেন রুমকি ঝুমকি নামে। আর টালিগঞ্জে লাল নীল তো ভীষণ জনপ্রিয়। সুজনকে দর্শক নীল হিসেবেই বেশি চেনেন। দাদা সুমন মুখোপাধ্যায়ের লাল নামটা অবশ্য কাছের মানুষদের মধ্যেই সীমিত।
বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর ডাকনামও চুমকি, অভিনেত্রীর বাবা তাঁর নাম রেখেছিলেন। গর্ব করেই নিজের ডাকনাম বলেন ঋতুপর্ণা।
এই সময়ের বাংলা ছবির শক্তিশালী অভিনেতা পাওলি দাম। তাঁর ডাকনামটি বেশ আধুনিক, পাও। ভালোনামের প্রথম দু'টি অক্ষর। পাওলির স্বামীও তাঁকে পাও বলেই ডাকেন। বাড়ির কেউ কেউ অবশ্য আদর করে 'বুড়ি' বলে ডাকেন।
তিনি একাধারে সুচিত্রা সেনের নাতনি, মুনমুন সেনের মেয়ে। ত্রিপুরার রাজ পরিবারের রক্ত বইছে তাঁর শরীরে, বলছি টলিউডের একেবারে প্রথম সারির অভিনেত্রী রাইমা সেনের কথা। রাইমার ডাকনাম ডুলু। কেউ ডল, ডুলি বলেও ডাকেন।
আচ্ছা, সবার কথা বলছি, পুতাইয়ের কথা বলা হয়নি! পুতাইকে চেনেন না! টলিপাড়ার সবচেয়ে ট্রেন্ডি মা। শুভশ্রী গঙ্গপাধ্যায়। বর্ধমানে বড় হওয়া শুভশ্রীকে বাড়িতে সকলে পুতাই-ই বলেন, এমন কী স্বামী রাজও।
টলিপাড়ার ডাকাবুকো অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। তাঁর রকমসকম বাকিদের থেকে একটু আলাদা। নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন মা তাঁকে ডাকেন 'মোনা সোনা' বলে। আর বাবা ডাকেন বকপাখি বলে। ডাকনাম বকপাখি? কেন? কারণ বাড়িতে নাকি মাঝেমধ্যেই এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
টলিপাড়ায় অভিনেত্রীন হিসেবে নাম কম, তবে আজকাল নেত্রী হিসেবে নাম বেশি সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ভোট লড়ছেন, জোর প্রচার করছেন। সায়ন্তিকার ডাকনাম দধিমণি! ছোটবেলা থেকেই দুধ খেতে খুব ভালবাসতেন। এই নামে ডেকে হাটে হাঁড়ি ভাঙতে ভালবাসেন সায়ন্তিকার বাবা।
বঙ্গ বিনোদন জগতে এদের সকলেরই বেশ নাম ডাক। তা, সে ডাক নামেই হোক, আর পোশাকি নামে।