বৈশাখ এলেই বাঙালি যেন একটু বেশি করে ডুবে থাকে রবীন্দ্র ভাবনায়। এবারেও তার ব্যতিক্রম হত না। তবে গত এক বছরে সমীকরণ সব পালটে গেছে। বদলে গেছে সব হিসেব। অতিমারী, দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হওয়া মৃত্যুমিছিলের মাঝে ফিকে হয়ে গেল এবারের রবীন্দ্র উদযাপন। অভূতপূর্ব এক সময়। অনন্ত সংকট। তবু তো বৈশাখ আসে। আসে ২৫, ‘জন্মের প্রথম শুভক্ষণ’।
আজ ২৫ বৈশাখ। আজ রবীন্দ্রনাথের ১৬১ তম জন্মজয়ন্তী। কালের নিয়মে রবি ঠাকুরের বয়স বাড়ে। তত বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েন মানুষটা, তাঁর ভাবনা, তাঁর কলম।
তবে গভীর ক্ষতর মাঝেও একটাই স্বস্তি। উদযাপনের হিড়িকে রবি কিছুটা কম আড়াল হবেন বোধহয় এবার। পূজার ছলে ভুলে থাকা অন্তত কমবে। এ বছর উদযাপনের নয়, উল্লাসের নয়।
যে গাছ আমাদের ছায়া দিয়ে চলেছে, তার তলায় এসে একটু জিরোই বরং একটা দিন। প্রিয়জন হারানোর শোক পেরোনোর শক্তি দিক সেই গাছ।
ঘোর দুঃসময়। অতিমারী ঘিরে রেখেছে আমাদের। হিংসা, ক্ষুদ্র আত্মপরিচয় আর অহং ঘুণ ধরিয়ে দিচ্ছে চারপাশে। এমন সময় রবির আলো এসে পড়ুক, ভোর হোক, এইটুকু তো চাওয়া। আজ এক কোলাহলবিহীন ২৫ বৈশাখে শিশু থেকে প্রবীণ, সবার মনে জ্বলজ্বল করুক একান্ত আপন রবীন্দ্রনাথ।