কলকাতাবাসীর মনে আমফানের স্মৃতি এখনও তাজা। তাই ঘূর্ণিঝড় ইয়াস নিয়েও তাঁদের মনে তৈরি হয়েছিল আতঙ্ক। যদিও আমফানের মতো ইয়াস কলকাতায় তেমন প্রভাব ফেলবে না বলে আগেই জানিয়েছিলেন আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তবুও সাধারণ মানুষের মনে থেকে গিয়েছিল আতঙ্ক। এদিকে বুধবার ইয়াসের বালেশ্বরে ল্যান্ডফল করার পর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভয় অনেকটাই কমে যায়। অবশেষে দুপুরের দিকে সাংবাদিক বৈঠক করে কলকাতার উপর ইয়াস আর কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে স্পষ্টই জানিয়ে দেন সঞ্জীববাবু।
তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কেন পড়ল না কলকাতায়? এর স্বপক্ষে সঞ্জীববাবুর যুক্তি, দূরত্বের কারণেই ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে বেঁচে গেল কলকাতা। বালেশ্বর থেকে কলকাতার দূরত্ব প্রায় ২০০ কিমি। ফলে দূরত্বের কারণেই বালেশ্বরে ল্যান্ডফল করেও কলকাতায় প্রভাব ফেলতে পারল না ইয়াস। তাঁর দ্বিতীয় যুক্তি, প্রাক বর্ষা পর্যায়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে মৌসুমি বায়ু এখন খুবই সক্রিয়। আর সেই অংশেই রয়েছে ওড়িশা। ফলে একদিকে ঘূর্ণিঝড় আর অন্যদিকে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বেশিরভাগ বৃষ্টিই হয়েছে ওড়িশায়। এই দুই কারণেই ইয়াসের তাণ্ডবলীলার হাত থেকে রক্ষা পেল কলকাতা।