চেনা মাঠ, চেনা অলিগলি। চেনা প্রতিটা মানুষ। সেখানকার মানুষ ছিল তাঁর পরিবারের সদস্য। এখনও তার অন্যথা হয়নি। সেচমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল, এক কথায় অসাধারণ। আর এ বার চষে বেড়ানো সেই রাস্তাতেই নতুন দলের পতাকা হাতে নেমে পড়েছেন ডোমজুড়ের বিজেপি প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন দলের লড়াই যতটাই কঠিন হোক না কেন এডিটরজির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর গলায় শোনা গেল আত্মবিশ্বাসের সুর।
মানুষের পাশে ১০টা বছর ছিলাম। মনে করতাম ডোমজুড় আমার বিধানসভা কেন্দ্র নয়। আমার একটা পরিবার। এখানকার মানুষকে আমি নিজের পরিবারের সদস্য বলে মনে করি। এভাবেই তাদের সঙ্গে কাজ করেছি। কোনও জায়গাতে আমার ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে বাধা পাচ্ছিলাম। তৃণমূল কংগ্রেসে যাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করতে চান তাঁদের টেনে নামিয়ে দেওয়া হয়। তাই যাঁদের আত্মসম্মান বোধ আছে আমি বলব তাঁদের আলাদা প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়া উচিত।
আমার মনে হয় আগে ঘরের শত্রু বিভীষণকে চিহ্নিত করুন। গদ্দারকে চিহ্নিত না করে আগে বিভীষণকে চিহ্নিত করুক। আর যদি গদ্দার-মিরজাফর বলতে হয় তাহলে যেদিন থেকে মুখ্যমন্ত্রী দল তৈরি করেছেন সেদিন যদি বিজেপির আশীর্বাদ ও সহযোগিতা না থাকত, যদি এনডিএ-তে ঢুকে তিনি রেলমন্ত্রী না হতেন তাহলে আজ ওঁর এই অবস্থা হত না। বিজেপি ও এনডিএ-র সাহায্যে নিজের দলকে হৃষ্টপুষ্ট করেছেন। ওঁর ইতিহাস বর্ণনা করতে গেলে আমাদের গদ্দার, বেইমান, মিরজাফর বলার আগে ওঁর নিজের আয়নাতে মুখ দেখা উচিত।
ডোমজুড়ের মানুষ আমাকে ভালো করে চেনেন। আমি কেমনভাবে ১০টা বছর তাঁদের পাশে ছিলাম সেটা তাঁরা জানেন। তাই জয় নিয়ে আমার কোনও অনিশ্চয়তা নেই।
পরিবার যখন বড় হয় তখন অনেক নতুন নতুন সদস্য আসে। আর খুশি নয় বলার মানে হল বিজেপি একটা বৃহত্তর দলে পরিণত হয়েছে। আর ক্ষমতায় আসতে চলেছে। মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এটা সবার থাকে। রাজনীতি এমন একটা জায়গা যেখানে কেউ স্বেচ্ছায় আসে না। সবারই কোনও না কোনও আশা রয়েছে। তাই সবাই টিকিট চান। কিন্তু, একজনের বেশি কাউকে তো আর টিকিট দেওয়া যায় না। তবে এখন সেগুলি মিটে গিয়েছে। সবাই আগামীদিনে নতুন বঙ্গ, আসল পরিবর্তন করার লক্ষ্যে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করব।