যুগের পর যুগ ধরেই ফ্যাশন দুনিয়ায় কালো রঙের পোশাকের চাহিদা আকাশছোঁয়া। কালো রঙের পোশাকের গুরুত্ব ও প্রভাব নিয়ে বলতে গেলে দুনিয়ার বহু বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনারই এক কথায় স্বীকার করেন, 'ব্ল্যাক হ্যাজ নেভার বিন আউট অব ফ্যাশন'! অথচ, এই কালো পোশাককে কেন্দ্র করেই আমেরিকার টেক্সাসের একটি মিডল স্কুল কর্তৃপক্ষের ঘোষণা জন্ম দিল নয়া বিতর্কের। স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য একটি নয়া পোশাকবিধি তৈরি করেছে ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ। যেখানে স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কোনও ধরনের কালো পোশাক পরতে পারবে না স্কুলের পড়ুয়ারা। তার কারণ হিসেবে যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত।
জানা গিয়েছে, কালো রঙের পোশাকের সঙ্গে অবসাদ সহ অন্যান্য মানসিক রোগ এবং অপরাধমূলক কাজের একটা প্রত্যক্ষ যোগাযোগের ধারা রয়ে গিয়েছে। যে কথা উল্লেখ করেই টেক্সাসের ওই স্কুলের এমন সিদ্ধান্ত।
যা উসকে দিয়েছে বিতর্ক। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, কে কী রঙের পোশাক পরবে, তা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার কি স্কুল কর্তৃপক্ষের আছে? অভিভাবকদের চিন্তা আবার অন্য। তাঁদের কথায়, ইতিমধ্যেই এতদিনের স্কুলের পোশাকের রীতি মেনেই কালো রঙের ট্রাউজার কিনে ফেলেছিলেন তাঁরা। এখন ওই পোশাক নিয়ে কী করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।
তবে, প্রশ্ন অন্যত্র। কালো রঙের পোশাকে কি সত্যিই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে মানসিক স্বাস্থ্যে? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করে দেওয়া যায় না। বিভিন্ন রঙের পোশাক আমাদের মস্তিষ্ককে নানাভাবে প্রভাবিত করে। কালো রঙ ক্ষমতার পরিচায়কও বটে বলে মনে করেন মনোবিশেষজ্ঞরা। তবে, বিষণ্ণতা ও একাকীত্বের সঙ্গে কালো রঙের যোগের কথাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা।
কোনও প্রশ্ন নেই, কোনও উত্তর নেই এমন এক ধ্বনিহীনতার মধ্যে অভিমানে বা ভালোবেসে বা আজন্মের সহজাত কৌতুক নিয়ে মূক সমর্পণ করে যান যাঁরা, মানুষের সঙ্গ-হীনতাকে ক্রমে নিজেদের অস্তিত্বহীনতার সমতূল্য করে তোলেন, কী এক দুঃখে চেয়ে থাকেন কোনও এক অদৃশ্য জানলার দিকে- যেখান দিয়ে কবে কোন শালিখপাখি এসে জিজ্ঞাসা করবে, কেমন আছেন তাঁরা- কালো রঙের পোশাক কি তাঁদের মনে আলাদা করে কোনও নতুন ছায়ার জন্ম দেয়? এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর এখনও নেই।.