বয়স ৪৪ । অনেকে তাঁকে বলেন টেনিস 'বুড়ো'। কিন্তু, বুড়ো হাড়েই একের পর এক ভেলকি দেখিয়েছেন তিনি । চলতি বছরই সবথেকে বেশি বয়সে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার রেকর্ড গড়েছেন তিনি । এবার প্যারিস অলিম্পিকে নেমেছিলেন চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে । দেশের জন্য পদক জয়ের স্বপ্ন । ২৮ বছর প্যারিস অলিম্পিকে ভারত কোনও পদক পায়নি । সেই খরা কাটিয়ে দেশকে মেডেল উপহার দিতে চেয়েছিলেন বোপান্না । কিন্তু, স্বপ্নপূরণ হল না । লড়াই করেও ব্যর্থ হলেন বোপান্না ও শ্রীরাম বালাজি জুটি । তারপরই, বোপান্না জানিয়ে দেন, দেশের জার্সিতে তিনি আর খেলবেন না । আন্তর্জাতিক টেনিস থেকে অবসর ঘোষণা করেন তিনি । আর এরসঙ্গেই ভারতীয় টেনিসের একটি অধ্যায়ের ইতি ঘটল বলা যেতে পারে ।
প্যারিস অলিম্পিক্সের দ্বিতীয় দিনে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয় রোহন বোপান্নাকে । পুরুষদের ডাবলসে শ্রীরাম বালাজি ও বোপান্না জুটি লড়াইয়ে নামেন । কিন্তু প্রথম রাউন্ডেই ৭-৫, ৬-২-এ হেরে যান বোপান্না-শ্রীরাম । এরপরই অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি । বোপান্না বলেন, 'এটাই আমার শেষ ম্যাচ যেখানে আছি, সেটা ইতিমধ্যেই একটি বড় বোনাস । আমি কখনও-ই ভাবিনি যে, দুই দশক ধরে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করব । এটা নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত ।' উল্লেখ্য, আগেই ডেভিস কাপ থেকে অবসর ঘোষণা করেছিলেন বোপান্না । এদিন ডেভিস কাপেরও স্মৃতিচারণা করেন তিনি । বোপান্না জানান, ২০১০ সালে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ডেভিস কাপ টাইতে রিকার্ডো মেলোর বিরুদ্ধে তাঁর জয় ভারতের জার্সিতে খেলা তাঁর সেরা মুহূর্তগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে থাকবে । সেইসঙ্গে প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর পাশে থাকার জন্য স্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বোপান্না ।
ছোট থেকেই খেলাধূলার প্রতি ঝোঁক ছিল বোপান্নার । প্রাথমিক জীবনে হকি ও ফুটবল খেলতে ভালবাসতেন । কিন্তু, একটা সময় ঠিক করেন টেনিস নিয়েই কেরিয়ার গড়বেন । ১১ বছর থেকে টেনিস শেখা শুরু । ধীরে ধীর ভালবেসে ফেলেন টেনিসকে । ২০০২ সালে ডেভিস কাপের ম্যাচে দেশের হয়ে প্রথম অভিষেক হয় বোপান্নার । সেই শুরু ২২ বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ভারতকে একাধিক ট্রফি উপহার দিয়েছেন ।
টেনিস কেরিয়ারে ৬ বার ডাবলসে গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালিস্ট হয়েছিলেন বোপান্না । এছাড়া ২ বার গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের গৌরবও অর্জন করেছিলেন । ২০১৭ সালে কানাডার গ্যাব্রিয়েলা ডেব্রোবস্কির সঙ্গে জুটি বেঁধে ফরাসি ওপেনের মিক্সড ডাবলস জেতেন । তবে, তাঁর টেনিস কেরিয়ারে এমনও একটা সময় এসেছিল, যখন তিনি টানা পাঁচ মাস কোনও ম্যাচ জিততে পারছিলেন না । সেইসময় একবার খেলা থেকে অবসর নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন । কিন্তু স্ত্রীর সমর্থন এবং বিশ্বাস তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। এরপরই বোপান্না চলতি বছর পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার নজিরও গড়েন ।