ডুরান্ড কাপে ইতিহাস অধরা মোহনবাগানের। শনিবার যুবভারতীতে ফাইনালে সবুজ-মেরুনকে টাইব্রেকারে চার-তিন গোলে হারিয়ে প্রথমবার ডুরান্ড নিয়ে পাহাড়ে ফিরছে নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড। এই ম্যাচের আগে নর্থ-ইস্ট ইউনাইডের কোচ বেনালি দাবি করেছিলেন, যুবভারতীতে তাঁরা ইতিহাস বদলে দেবেন।
দল মালিক জন অ্যাব্রাহামের উপস্থিতিতে টুর্নামেন্টের ফেভারিট গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান সুপার জায়েন্টকে হারিয়ে সত্যিই ইতিহাস বদলে দিলেন হাইল্যান্ডসরা। ম্যাচে দুই শূন্য গোলে পিছিয়ে ছিল নর্থ-ইস্ট। দু মিনিটের মধ্যে জোড়া গোলে ম্যাচে ফিরেছিল। টাইব্রেকার প্রথম লিস্টন কোলাসো ও পরে অধিনায়ক শুভাশিস বোসের গোল বাঁচিয়ে বিশাল মঞ্চে ফাইনালে নায়ক আর এক ভারতীয় গোলকিপার গুরমিত সিং।
গত বারের চ্যাম্পিয়ন। সামনে রেকর্ড ১৭ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ। এক কথায় এদিন হট ফেভারিট হয়েই ডুরান্ডের ফাইনালে নেমেছিল হোসে মলিনার সবুজ-মেরুন। ম্যাচের ১১ মিনিটে জেসন কামিন্সের পেনাল্টি থেকে করা গোলে এগিয়ে যায় কলকাতার এই প্রধান। প্রথমার্ধ শেষের খানিক আগে সাহালের গোলে দুই শূন্য করে মোহনবাগান।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে অন্য ছবি যুবভারতীতে। মাত্র দু মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের। প্রথমে আইজারের গোলে লিড কমায় পাহাড়ি এই দল। স্প্যানিশ গুলেরমোর গোলে ম্যাচে সমতায় ফেরে তারা। এদিনের ম্যাচে প্রথমার্ধে মোহনবাগানকে যতটা উজ্জ্বল দেখিয়েছে, দ্বিতীয়ার্ধে ঠিক ততটা মনে হল না। বরং আইএসএল শুরুর আগে এদিনও বাগান ডিফেন্সের বড় ফাঁক বেশ চোখে পড়ল। এবং দুটি গোলই হল বাগান ডিফেন্ডারদের ভুলে।
এই নিয়ে টানা তিনটি ম্যাচ টাইব্রেকার। প্রায় হাউজফুল যুবভারতীর প্রত্যাশা বাড়ছিল তাঁদের নায়ক বিশাল কায়েতকে ঘিরে। কারণ, এই টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনাল দুটি জয়ের পিছনে ছিল বিশাল হাত। কিন্তু টাইব্রেকারের শুরুতেই নাটক। প্রথম শট বার উচিয়ে পাঠিয়ে দেন বাগানের কামিন্সের। তাঁকে ফের শট নিতে নির্দেশ দেন রেফারি।
কিন্তু বিশাল মঞ্চে নায়ক হয়ে রইলেন আর এক ভারতীয় গুরমিত সিং। এশিয়ান গেমসে ইগর স্তিমাচের দলের শেষ দূর্গ ছিলেন এই তরুণ গোলকিপার। আইএসএল শুরুর আগে জন আব্রাহ্যামের মুখে হাঁসি চওড়া হল এই গুরমিতের হাতেই।