সূর্যাস্তের পরে ময়নাতদন্ত করার নিয়ম নেই। কিন্তু আরজি করে মৃত তরুণী চিকিৎসকের ক্ষেত্রে তাই-ই করা হয়েছিল। এই ইস্যু নিয়ে অনেক প্রশ্ন বারবার উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে কলকাতা পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ৯ অগাস্ট ঘটনার দিন, সন্ধ্যার পরে ময়নাতদন্ত করতে আপত্তি করেন মেডিকেল বোর্ডে থাকা এক সদস্য। কিন্তু তার আপত্তি শোনা হয়নি। পুলিশ ও হাসপাতালের তৎপরতায় সন্ধ্যার পরেই আরজি করে মৃত চিকিৎসকের ময়নাতদন্ত করানো হয় বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার একটি নোট ও চিঠি প্রকাশ্যে আসে। আরজি করের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসককে চিঠি পাঠায় টালা থানা। সেই চিঠি নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ৯ অগাস্ট, তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর আরজি করের সুপার একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেন। বোর্ডে ছিলেন মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিনের প্রফেসর অপূর্ব বিশ্বাস, অ্য়াসোসিয়েট প্রফেসর রিনা দাস ও নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মলি বন্দ্যোপাধ্যায়। বোর্ডের এক সদস্য নোট দিয়ে জানান, বিকেল ৪টের পরে যদি ময়নাতদন্ত শুরু হয়, তা হলে পুলিশের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা লাগবে। শুধু তাই নয়, নোটে ২০২১ সালে স্বাস্থ্য দফতরের একটি নির্দেশিকার মেমো নম্বরও তিনি উল্লেখ করেন।
ওই মেমো নম্বর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের ওই নির্দেশিকায় বলা ছিল, আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা ছাড়া খুন, আত্মহত্যা, ধর্ষণ, উদ্ধার হওয়া পচাগলা দেহ এবং রহস্যজনক মৃত্যুর ক্ষেত্রে রাতে ময়নাতদন্ত করা যাবে না। মেডিকেল বোর্ডের ওই নোট পাওয়ার পর টালা থানার এক সাব ইন্সপেক্টর ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক প্রবীর চক্রবর্তীকে একটি চিঠি লিখে দাবি করেন, বিশেষ কারণে বিকেল চারটে পর তরুণী চিকিৎসকের ময়নাতদন্ত করা হবে। সেই চিঠি ফরোয়ার্ড করেন টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডল। সূত্রের খবর, এরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ময়নাতদন্ত নিয়ে পদক্ষেপ করেন। জানা গিয়েছে, সেদিন পুলিশের মৌখিক নির্দেশেই সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত করা হয়। কিন্তু কেন সন্ধ্যার পরে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
আরজি কর মেডিকেল কলেজেই মৃতদেহ সংরক্ষণ করার সুনির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। তা সত্ত্বেও সূর্যাস্ত হওয়ার পর কেন ময়নাতদন্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রশ্ন ওঠে মাত্র তিন মাস আগে RMO থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হওয়া চিকিৎসককে কীভাবে এই মেডিকেল বোর্ডে রাখা হয়েছিল! আরজি করের ঘটনায় ওই মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ কীভাবে বোর্ড গঠন করে এই নির্দেশ জারি করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এসবের প্রেক্ষিতেই আরজি করের মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ লবির ঘনিষ্ঠ দুই চিকিৎসককে ইচ্ছাকৃতভাবে বোর্ডে রাখা হয়েছিল। সোমবার আরজি কর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের শুনানি ছিল। সেই শুনানিতেই এই বিষয়টি তোলেন আইনজীবীরা।
মৃত চিকিৎসকের বাবা-মা বারবার সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, তাঁরা দেহ দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তা করতে দেয়নি। এবার এই নোট ও চিঠি প্রকাশ্যে আসতে আরজি কর কাণ্ড অন্যদিকে মোড় নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।