এবার পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সরব হলেন আরজি করের নির্যাতিতার দাদা থেকে কাকিমা। পরিবারের বাকি সদস্যরাও। বিচারের দাবিতে রাতদখলে যাদবপুরে প্রতিবাদীদের মঞ্চ থেকে নির্যাতিতার দাদা জানিয়েছেন, "বোনের দেহটা রেখে দিতে চেয়েছিলাম, পুলিশি তৎপরতায় পারিনি।"
আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রী খুনের দিন সকালে সেমিনার হলের ভিডিয়ো সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছিল। যাদবপুরের মঞ্চে ওই প্রসঙ্গ টেনে পুলিশি গাফিলতির জোরালো অভিযোগ আনেন নির্যাতিতার কাকিমা। তিনি জানিয়েছেন, "সেদিন ওর বাবা-মা পুলিশের হাতে পায়ে ধরেছে। কিন্তু মেয়ের দেহ দেখতে দেয়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখেছে। অথচ সেই সেমিনার হলে তখন প্রচুর মানুষ।"
এই নিয়ে আগেও প্রশ্ন তুলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। ক্রাইম সিন কেন সুরক্ষিত রাখা হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছিল আদালত। গত বুধবার আরজি করে প্রতিবাদীদের মঞ্চ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও প্রকাশ্যে এনেছিলেন নির্যাতিতার বাবা। আন্দোলনকারী চিকিৎসকরাও বারবার পুলিশি তৎপরতার প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
রবিবার এনআরএস থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত চিকিৎসকদের মিছিলে অংশগ্রহণ করেন নির্যাতিতার পরিবার। ধর্মতলার মঞ্চে নির্যাতিতার মা জানান, "আমরা আর উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলব না। বিচার করতে হবে, এটাই আমাদের দাবি।" তাই স্লোগান বদলে হয়, উই ডিমান্ড জাস্টিস। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান, যতক্ষণ বিচার না হবে, ততক্ষণ যেন কেউ রাস্তা না ছাড়ে।
রাতে যাদবপুরের এইট বি-র মঞ্চ থেকে একই আর্জি করেন নির্যাতিতার দাদা। তিনি গত এক মাসের যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন। তিনি বলেন, "মেয়েটা নেই, এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। গত এক মাস আমাদের নাওয়া-খাওয়া উঠে গেছে। এভাবে একটা মধ্যবিত্ত পরিবারকে যারা শেষ করে দিয়েছে, তাদেরও শেষ করার প্রতিজ্ঞা নিতে হবে।"